নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় বুড়িতিস্তা নদীর বাঁধ ভেঙে ডোমার উপজেলার কয়েকটি এলাকায় প্রবল বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলের ফলে নদীর পানির চাপ বেড়ে যায়, যার ফলে বৃহস্পতিবার ভোররাতে সুন্দর খাতা এলাকায় বাঁধের প্রায় ৬০ মিটার অংশ ভেঙে যায়। এ ঘটনায় আশেপাশের প্রায় ১০টি গ্রাম দ্রুত পানির নিচে তলিয়ে গেছে, আর শতাধিক পরিবার এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
উত্তর পাংগা (ডোমার) গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা হবিবর রহমান জানিয়েছেন, বাঁধটি ষাটের দশকে নির্মিত হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। তিনি আরও জানান, "এর আগে প্রায় ২০ বছর আগে বাঁধ ভেঙে এই এলাকার বহু জমি অনাবাদি হয়ে পড়েছিল। অথচ এত দিনেও টেকসই কোনো বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এবারও একইভাবে হাজার একরের বেশি কৃষিজমি প্লাবিত হয়েছে এবং বহু কৃষকের আমন ধানের বীজতলা তলিয়ে গেছে।"
এ বিষয়ে পাশের এলাকার (বালাপাড়া, ডিমলা) আব্দুল আজিজ নামে আরেক বাসিন্দা বলেন, "প্রবল বৃষ্টিপাত এবং উজানের ঢল বাঁধটি ভেঙে ফেলেছে। পানি খুব দ্রুতগতিতে আমাদের গ্রামে ঢুকে পড়েছে। বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় আমরা কাপড়-চোপড়সহ অন্যান্য জিনিসপত্র খাটের উপরে তুলে রেখেছি। কিন্তু যদি রাতে আরও বৃষ্টি হয়, তাহলে আমাদের আর ঘরে থাকা সম্ভব হবে না। পরিবার নিয়ে আমরা কঠিন বিপদে আছি।"
এ বিষয়ে ডিমলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সামনে কথা বললেও ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কোনো মন্তব্য করেননি। ডিমলা উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী জানিয়েছেন, "বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে অন্তত এক হাজার বিঘা আবাদি জমি সাময়িকভাবে পতিত হয়ে পড়বে। কৃষকদের ফসল বাঁচানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তবে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের জন্য সরকারিভাবে সহায়তা দেওয়া হবে।"
স্থানীয় কৃষকরা জানান, এই বাঁধটি রক্ষার জন্য দীর্ঘদিন ধরে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিবারই বন্যার সময় একই রকম দুর্দশার সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের। এবারও বহু কৃষক তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, বিশেষত যারা আমন ধানের চারা রোপণ করেছিলেন।
নীলফামারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আতিকুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, "বাঁধ ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তবে এটি একটি পুরোনো বাঁধ এবং এটি আমাদের অধীনে রয়েছে কিনা তা নিয়েও কিছুটা সংশয় রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র খতিয়ে দেখে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।"
স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে যাতে একই ধরনের সমস্যা না হয়, সে জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
রায়হান কবির, ডোমার।